পঁচিশে বৈশাখ ও ন্যায়ের অন্বেষণ

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির…”

পঁচিশে বৈশাখ। বাঙালির হৃদস্পন্দন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। আমরা ভয়েস অফ ক্লার্ক-এর পক্ষ থেকে এই মহান মনীষীর চরণে জানাই সশ্রদ্ধ প্রণাম। তবে একজন ল-ক্লার্ক বা আইনি কর্মীর কাছে কবিগুরুর প্রাসঙ্গিকতা কেবল কাব্য বা গানে সীমাবদ্ধ নয়; তাঁর জীবনদর্শন আমাদের পেশাগত সততা ও ন্যায়ের পথে চলার অন্তহীন প্রেরণা।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর লেখনীতে বারবার শোষিতের অধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলেছেন। তিনি লিখেছিলেন— অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে / তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে। আইন-আদালতের চৌহদ্দিতে দিনরাত কাজ করা আমাদের মতো ল-ক্লার্কদের জন্য এই বাণী এক চরম সত্য। বিচারপ্রার্থী মানুষ যখন বুকভরা আশা নিয়ে আদালতের বারান্দায় এসে দাঁড়ান, তখন তাঁদের সেই আশা পূরণ করার নেপথ্য কারিগর হিসেবে আমাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কবির সেই নির্ভীক মানসিকতা যদি আমরা আমাদের দৈনন্দিন পেশাগত জীবনে ধারণ করতে পারি, তবেই বিচার ব্যবস্থার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে।

আমাদের এই ক্ষুদ্র সংবাদপত্র ‘ভয়েস অফ ক্লার্কসবসময় ল-ক্লার্ক ভাই-বোনদের অধিকার, মর্যাদার ও দাবি দাওয়ার কথা নিয়ে এগিয়ে চলবে । কবিগুরু শিখিয়েছিলেন একতাবদ্ধ হতে এবং নিজের আত্মপরিচয়কে খাটো না করতে। এই পবিত্র দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক— আইনি জটিলতার অন্ধকারে আলো দেখানো এবং সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা।

বর্তমানে আমাদের পেশার সামনে নানা চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল ব্যবস্থা থেকে শুরু করে পরিকাঠামোগত পরিবর্তন— সবকিছুই আমাদের মানিয়ে নিতে হচ্ছে। কবিগুরুর ভাষায় বলতে গেলে, “পুরাতন বিদায় নেয় নতুনকে জায়গা দিতে“। আমরাও আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলব, কিন্তু আমাদের মূল শিকড় যেন ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুত না হয়।

পরিশেষে, কবিগুরুর সেই অমোঘ মন্ত্রকে পাথেয় করে আমরা এগিয়ে চলি—

এইসব মূঢ় ম্লান মূক মুখে দিতে হবে ভাষাএইসব শ্রান্ত শুষ্ক ভগ্ন বুকে ধ্বনিয়া তুলিতে হবে আশা” রাজ্যের সমস্ত ল-ক্লার্ক বন্ধু ও পাঠকদের জানাই কবিপক্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা।